প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

For Advertisement

600 X 120

বাংলাদেশের সংসদ নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী

১৭ এপ্রিল ২০১৮, ৯:২৬:৫৫
ঢাকা, ১৭ এপ্রিল, কারেন্ট নিউজ বিডি : বাংলাদেশের সংসদ হচ্ছে নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীক বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশের সংসদ হচ্ছে দুনিয়ার একমাত্র সংসদ, যেখানে সংসদের স্পিকার, সংসদ নেতা ও উপ-নেতা এবং বিরোধীদলীয় নেতা সবাই নারী। আমাদের পুরুষ সংসদ সদস্যরা খুবই উদার।’

কমনওয়েলথ মহাসচিব প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ডের আমন্ত্রণে কমনওয়েলথ ওমেন্স ফোরাম আয়োজিত ‘ক্ষমতায়নে শিক্ষা: কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোতে নারীর জন্য ‘গুণগত মানের প্রাথমিক শিক্ষা ও বাস্তবভিত্তিক মাধ্যমিক শিক্ষা এবং সমতা আনয়ন শীর্ষক’ প্ল্যানারি সেশনের মূল বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।

সময় তিনি নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে দেশের সংসদে নারীদের শক্তিশালী উপস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের সময় উপস্থিত ৫৩ জাতির কমনওয়েলথভুক্ত অন্য দেশগুলোর নেতারা করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান।

নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ৩০ শতাংশ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত। জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। বর্তমান সংসদের ২২ জন নারী সরাসরি ভোটে নির্বাচিত।

জাতি হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠায় নারীর অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতি হিসেবে আমাদের যাত্রায় নারীরা সমান অংশীদার। আমাদের নারীরা মহান মুক্তিযুদ্ধে সর্বোচ্চ ত্যাগ হিসেবে তাদের জীবন উৎসর্গ করেছে।

নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের সফলতার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, নারীর সমতায় দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ অগ্রপ্রথিক। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের হিসেবে নারীর ক্ষমতায়নে ১৪৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৪৭তম এবং দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে ১৫৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ সপ্তম।

তিনি বলেন, সম্ভবত বাংলাদেশের সংসদই বিশ্বের একমাত্র সংসদ যেখানে স্পিকার, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা- চারজনই নারী।

‘আমাদের নারীরা পাইলট, ট্রেন চালক, সশস্ত্র বাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মতো চ্যালেঞ্জিং পেশায় কাজ করছে। এছাড়াও বাংলাদেশের নারীরা জেলা জজ, উপ-কমিশনার, পুলিশ সুপার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক, রাষ্ট্রদূতের মতো উচ্চ পদগুলোতে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে। শুধু তাই নয়, জাতিসংঘের অধীনে শান্তিরক্ষা মিশনে ১৯০ জন নারী সদস্য কাজ করছেন। বাংলাদেশের নারী এভারেস্ট জয় করেছে। দেশে-বিদেশে খেলাধুলাতেও নারীদের সাফল্য ঈর্ষণীয়।’

নারীদের সাবলম্বী করতে সরকারের নানা উদ্যোগ ও সফলতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের আমরা বিশেষ সুবিধা দিচ্ছি। তারা বিনা জামানতে মাত্র ৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জ সুবিধায় ঋণ নিতে পারে। দেশের প্রতিটি জেলায় নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে ‘আমার ইন্টারনেট আমার আয়’ প্রকল্পের মাধ্যমে তথ্য প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। নারীদের সাবলম্বী করতে ও চাকরি বাজারে তাদের প্রবেশ বাড়াতে খাতভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। একটি বাড়ি, একটি খামার প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের ক্ষুদ্র ঋণ দেওয়া হচ্ছে। দরিদ্র ও প্রান্তিক নারীরা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সাবলম্বী হচ্ছে।

নারী শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি বিশ্বাস করি উপযুক্ত শিক্ষা ছাড়া নারীর ক্ষমতায়ন সম্ভব নয়। বালিকাদের শিক্ষার জন্য আমাদের সরকার একগুচ্ছ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

নারী শিক্ষার প্রসারের সুফল তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সামাজিক প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ ও গ্রামীণ নারীদের জীবনমান উন্নয়নে নারী শিক্ষা ব্যাপক সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এর ফলে পারিবারিক নির্যাতন ও শোষণের ঘটনা বহুলাংশে কমেছে। নারী শিক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বাল্যবিবাহ কমাতে ব্যাপক অবদান রাখছে।

নারী শিক্ষার প্রসারে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করা হয়েছে। ২ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন শিশুর জন্য স্কুলে খাদ্য কর্মসূচি, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কর্মসূচি, ২০ দশমিক ৩ মিলিয়নের মতো শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি ও মেধাবৃত্তি প্রদানে বেশির ভাগই ছাত্রী।

তিনি বলেন, আমাদের শতভাগ শিশু স্কুলে যায়। ২০০৯ সালে যেখানে স্কুলগামী মেয়ের সংখ্যা ছিল মাত্র ৩৫ শতাংশ, তা এখন বেড়ে হয়েছে ৫৩ শতাংশ। শিক্ষার হার ৪৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৩ শতাংশ হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অধিকাংশ পদ নারীদের সংরক্ষিত। ২০০৯ সাল থেকে ১ লাখ ২০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

‘অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা, সামজিক ও মানবিক উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে ২০১০ সালের শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছি। প্রথমবারের মতো আমাদের সরকার এক বছরের জন্য প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেছে। আমাদের মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ তরুণ। তাদের ভবিষ্যতের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।’

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে’র আমন্ত্রণে ২৫তম কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে সোমবার স্থানীয় সময় রাত পৌনে একটায় লন্ডন পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। দাম্মামে গাল্ফ শিল্ড ওয়ানের সমাপনী অনুষ্ঠান যোগদান শেষে সৌদি আরব থেকে লন্ডন আসেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে ১৫ এপ্রিল বিকেলে সৌদি আরব ও লন্ডন সফরের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী।

সফরের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী লন্ডন সিটি করপোরেশনে আয়োজিত নৈশভোজে অংশগ্রহণ ও বিকেলে বাংলাদেশের উন্নয়নের গল্প নিয়ে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক সেক্রেটারি অব স্টেট পেনি মরড্যান্ট।

১৮ এপ্রিল শেখ হাসিনা এশীয় নেতাদের ‘ক্যান এশিয়া কিপ গ্রোইং’ রাউন্ডটেবিলে অংশ নেবেন। বিকালে তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে আয়োজিত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান ও পরে নৈশভোজে যোগ দেবেন।

১৯ এপ্রিল শেখ হাসিনা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের বৈঠকের (সিএইচওজিএম) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন।

শেখ হাসিনা কমনওয়েলথ মহাসচিব প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড কিউসির দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। তিনি সরকার প্রধান ও তাদের স্বামী-স্ত্রীদের সম্মানে বাকিংহাম প্যালেসে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের দেওয়া সংবর্ধনা ও নৈশভোজে যোগদান করবেন।

২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তিনটি ‘রিট্রিট সেশন’ ও শীর্ষ সম্মেলনের সমাপনী কার্যনির্বাহী অধিবেশনে অংশ নেবেন।

২১ এপ্রিল তিনি রয়েল কমনওয়েলথ সোসাইটি (আরসিএস) আয়োজিত শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী সরকার প্রধানদের জন্য সংবর্ধনা এবং রাণীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

একই দিনে প্রধানমন্ত্রী এক কমিউনিটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

এ ছাড়া শেখ হাসিনা শীর্ষ সম্মেলনের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ২৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

For Advertisement

600 X 120

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: