প্রচ্ছদ / বরিশাল / বিস্তারিত

প্রেমিকের সাথে বিয়ে না দেয়ায় মাদ্রাসাছাত্রীর আত্মহত্যা

৯ এপ্রিল ২০১৮, ৪:১৬:৫৭

ঢাকা, ০৯ এপ্রিলকারেন্ট নিউজ বিডি : বরগুনার আমতলীতে প্রেমিকের সাথে বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় বাবা-মায়ের সঙ্গে অভিমান করে কীটনাশক ট্যাবলেট (অ্যালুমিনিয়াম ফসফাইড) খেয়ে আত্মহত্যা করেছে এক মাদ্রাসাছাত্রী। নিহত ছাত্রীর নাম আছিয়া খাতুন।

রোববার (৮ এপ্রিল)  সকালে আমতলীর ঘোপখালী আল আমিন মাদ্রাসায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত আছিয়া ঘোপখালী গ্রামের আবদুল আজিজ আকনের মেয়ে। সে ঘোপখালী আল আমিন দাখিল মাদ্রাসায় নবম শ্রেণির ছাত্রী। এ ঘটনায় আমতলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ওমর ফারুক নামের এক ছাত্রের সঙ্গে আছিয়া খাতুনের গত দেড় বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ঘটনা দুই পরিবার মধ্যে জানাজানি হয়। ওমর ফারুক জানুয়ারি মাসে মাদ্রাসা থেকে চলে যায়। ওমর ফারুক আড়পাঙ্গাশিয়া গ্রামের আলী আকবরের ছেলে। পরীক্ষা শেষে ছেলের পরিবার মেয়ের পরিবারের কাছে পারিবারিকভাবে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু এতে রাজি হয়নি মেয়ের পরিবার।

রোববার সকালে ওই ছেলেকে বিয়ে করবে বলে আছিয়া তার মা দেলোয়ারা বেগমকে জানায়। কিন্তু বাবা-মা ওই ছেলের সঙ্গে মেয়েকে বিয়ে দিতে রাজি হয়নি। এ সময় মা দেলোয়ারা বেগম মেয়েকে বকা দেয়। এতে অভিমান করে আছিয়া মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে ঘোপখালী বাজারের একটি দোকান থেকে কীটনাশক ট্যাবলেট কিনে খেয়ে ফেলে। মাদ্রাসায় পৌঁছলে অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উদ্ধার করে তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেয়।

পরে তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় স্বজনরা আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা শেষে আছিয়া খাতুনকে কর্তব্যরত চিকিৎসক জিকু শীল পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পটুয়াখালী নেওয়ার পথে শাখারিয়া নামক স্থানে তার মৃত্যু হয়।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার গৌরাঙ্গ হাজরা বলেন, ‘কীটনাশক জাতীয় দ্রব্য খেয়ে আছিয়ার মৃত্যু হয়েছে।’

ঘোপখালী আল আমিন দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা একেএম ইসমাইল বলেন, ‘আছিয়া মাদ্রাসায় অসুস্থ হয়ে পড়লে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অছিয়াকে উদ্ধার করে ওর বাড়িতে পৌঁছে দেয়।’

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সহিদ উল্লাহ বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: